নেত্রকোনা পূর্বধলা উপজেলার পূর্বধলা উত্তর রাজপাড়া এলাকায় কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়া বাসা বাড়ি-ভিটিতে উচ্ছেদ অভিযানের অভিযোগ করেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার।
গত রবিবার (২৪ নভেম্বর ) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় বিজ্ঞ সহকারী জজ, পূর্বধলা, নেত্রকোনা এর ০৪/২০২৪ অন্য ডিং মোকদ্দমায় ভূমি দখল প্রদান কাজে মহিউদ্দিন নাজির এ অভিযান পরিচালনা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের মেঘাপাড়া গ্রামের ভূমিদস্যু হাইকোর্টের পেশকার মোঃ মাসুদ গংদের সাথে আমাদের যায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো, হটাৎ কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ বা কোন ধরনের খবর ছাড়া আজকে প্রশাসন এসে আমাদের বাসা বাড়ি সহ সব কিছু ভেঙ্গে তচনচ করে ফেলেছে। তারপরেও আমরা তাদের কাছে আধা ঘন্টা সময় চেয়েছিলাম যাতে করে ঘরের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র গুলো বাহির করে নিতে পারি। কিন্তু আমাদের সেই সময়টুকুও দেয়নি প্রশাসন। আমাদের ঘরের এমন অবস্থা করা হয়েছে যে আমরা অন্যত্র নিয়ে ঘরটা বসিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে কোন রকম থাকবো সেই ব্যবস্থা টুকুও রাখেনি তারা। এসময় ঘরের ভিতরে থাকা চাল-ডাল,টাকাসহ কাথা-বালিশ থেকে শুরু করে সব কিছু মাটির মধ্যে ফেলে দিয়েছে অভিযানে অংশ নেওয়া ভাড়া করা অনেক গুলো মানুষ, যাদেরকে আনা হয়েছে ঘর ভাঙার জন্য, এমন অস্থায় সবাই না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
এধরনের অভিযান দেখে হতাশ এলাকা বাসি। চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে পুরো এলাকা জুড়ে। এসময় এলাকাবাসী বলেন, কাউকে যদি উচ্ছেদ করতে হয় রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাকে আগে নোটিশ করে একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আর আইন অনুযায়ী নোটিশে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে জায়গা খালি না করা হলে এবং নোটিশের অমান্য করলে তার পর এধরনের অভিযান করা হয়। কিন্তু এটা কোন ধরণের অভিযান? কোন প্রকার নোটিশ ও আগাম লাল পতাকা দিয়ে সংরক্ষিত চিহৃ না দিয়ে এ ধরণের অভিযান করে অসহায় পরিবার গুলোকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো পুরোটাই মানবাধিকার লঙ্গন করা ছাড়া আর কিছু নয়। হটাৎ করে এসে সন্ত্রাসীদের মত নিরীহ পরিবার গুলোর সব ভাঙচুর করে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করে দিয়ে তাদের বাসা বাড়ি থেকে বিভিন্ন প্রকার মালামাল গুলোও নিয়ে যায়। অন্তত তাদেরকে এক ঘন্টা সময় দিলে তারা আসবাবপত্র গুলো বাহির করতে পারতো বা ঘরের চাল গুলো আলাদা করে খুলে অন্যত্র নিয়ে রাখতে পারতো।
এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ উপজেলার উত্তর রাজপাড়া গ্রামের ১২টি পরিবার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিআরএস রেকর্ড ভূক্ত ভূমির উপর বাসা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে কিন্তু আকস্মিকভাবে কোনো রকম নোটিশ ছাড়া ১২টি পরিবারের বাসা বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে ১২টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান বলেন, গতকাল রোববার (২৪ নভেম্বর) পূর্বধলা উপজেলার মেঘাপাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে হাইকোর্ট এর পেশকার মাসুদ মিয়া (ভূমিদস্যু) মামলার নোটিশ গোপন ও জালিয়াতি করে ডিক্রি জারির মাধ্যমে ১২টি পরিবারের বৈধ বাসা বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে দুই কোটি দশ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এমন আশ্চর্যজনক ঘটনার প্রতিবাদে আমরা ১২টি পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এমন আশ্চর্যজনক কর্মকান্ডের জন্য ক্ষতিপূরণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এই বিষয় উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ খবিরুল আহসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এ বিষয়ে কিছুই শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্বারকলিপি প্রদান করলে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঘটনাস্থলে পরে এসে দেখে যাবে বলে এই আশ্বাস দেন।
অভিযান পরিচালনার দ্বায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন নাজির বলেন, আদলতের নির্দেশে আজকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাই আমি উপস্থিত থেকে এই উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালনা করি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, নোটিশের বিষয়টি একান্ত আদালতের বিষয়। ভুক্তভোগী পরিবারকি নোটিশ পেয়েছে নাকি পায়নি সেটা আদালত দেখবে। নোটিশের বিষয় আমার দেখার বিষয় নয়।


