নেত্রকোণা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি রমজান মাসেই এসব সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য :অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তাঁর পিতা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলী নেত্রকোণা-৫ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি দীর্ঘদিনের।

শিক্ষা ও পেশাগত জীবন:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। পূর্বধলায় নারী শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় নারী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা:অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি বর্তমানে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এর আগে তেজগাঁও থানা বিএনপির সদস্য, মহিলা দলের তেজগাঁও শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশেষ করে গত ১৭ বছর বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তিনি পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন এবং সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে কাজ করেছেন। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দৃঢ়তা ও আদর্শিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
মনোনয়ন নিয়ে প্রত্যাশা:মনোনয়ন প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন বলেন,দলের সুসময়-দুঃসময় সবসময় পাশে থেকেছি। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করব।

সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়নকে ঘিরে নেত্রকোণার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন পান কি না।


